শিক্ষার অধিকার ও সুযোগের সমতা: ৭টি অমূল্য পরামর্শ যা আপনার জীবন বদলে দেবে

webmaster

학습권과 교육 기회 균등 - **Prompt:** "A vibrant illustration of digital learning bridging the urban-rural divide in Banglades...

শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার, আর এই অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সমাজের অন্যতম বড় লক্ষ্য। কিন্তু সত্যিই কি আমরা সবাই সমান সুযোগ পাচ্ছি? বিশেষ করে, দেশের প্রান্তিক অঞ্চল বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোর ছেলেমেমেয়েদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার স্বপ্ন যেন আজও অধরা। যখন দেখি শহর আর গ্রামের স্কুলগুলোর মধ্যে বৈষম্য, বা মুখস্থ বিদ্যার পেছনে ছুটে চলা, তখন সত্যি মন খারাপ হয়। এই ডিজিটাল যুগেও যখন প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সবার কাছে পৌঁছায়নি, তখন শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি আমরা, অথচ শিক্ষার ভিত্তি যদি মজবুত না হয়, তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কি করে?

আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রতিটি শিশুর ভেতরের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে হলে প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ। তাই এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চলুন, আজকের আলোচনায় প্রবেশ করি!

আপনারা কেমন আছেন, বন্ধুরা? আশা করি সবাই ভালো আছেন! আমি জানি, আজকাল সবার মনে একটা প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে – “আমাদের ছেলেমেয়েরা কি আসলেই মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে?” আমি তো সত্যি বলতে, যখন আমার ছোটবেলার কথা ভাবি, তখন দেখি কত পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পরিবর্তন মানেই কি সব ভালো?

না, মোটেও না! বিশেষ করে, আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ দেখে মাঝে মাঝে মনটা খারাপ হয়ে যায়। শহর আর গ্রামের স্কুলের মধ্যে যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য, সেটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এই যে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি আমরা, সেখানে সবার জন্য আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাটা কি আরও বেশি জরুরি নয়?

আমার মনে হয়, শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রতিটি শিশুকে তার ভেতরের সম্ভাবনাগুলোকে চিনতে শেখানো, শুধু মুখস্থ বিদ্যার পেছনে ছোটা নয়। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমার অনেক দিনের অভিজ্ঞতা আর ভাবনা আছে, যা আপনাদের সাথে শেয়ার না করলে মনে হয় বড্ড ভুল হবে। তাহলে চলুন, দেরি না করে আজকের আলোচনায় ডুব দিই!

প্রযুক্তির জাদুতে শিক্ষার নতুন দিগন্ত

학습권과 교육 기회 균등 - **Prompt:** "A vibrant illustration of digital learning bridging the urban-rural divide in Banglades...

এই ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তি যেন এক জাদুকরের ছড়ি হাতে আমাদের সামনে নতুন এক পথ খুলে দিয়েছে। আপনারা হয়তো ভাবছেন, “এ আর নতুন কী কথা?” কিন্তু বিশ্বাস করুন, প্রযুক্তির ব্যবহারটা যদি সঠিক পথে হয়, তাহলে শিক্ষার জগতে বিপ্লব আনা সম্ভব। আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, তাদের সামনে খুলে গেছে জ্ঞানের এক বিশাল ভান্ডার। যখন আমি নিজের ছোটবেলার কথা ভাবি, তখন ক্লাস মানে ছিল কেবল শিক্ষকের বক্তৃতা শোনা আর নোট নেওয়া। কিন্তু এখন?

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, অনলাইন ভিডিও টিউটোরিয়াল, ইন্টারেক্টিভ লার্নিং প্ল্যাটফর্ম—এগুলো সব যেন আমাদের হাতের মুঠোয়! আমি নিজে দেখেছি, কিভাবে একটি জটিল বিজ্ঞান বিষয় ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে সহজ হয়ে যায়, যা আগে শুধুমাত্র কল্পনাই করা যেত। এতে শিক্ষার্থীরা শুধু শেখে না, বরং শিখতে ভালোবাসে। মুখস্থ করার চাপ কমে আসে, আর তারা বিষয়গুলো গভীরভাবে বুঝতে পারে। এই পদ্ধতি ছেলেমেয়েদের মধ্যে সৃজনশীলতা বাড়ায় এবং তাদের নিজেদের মতো করে শিখতে উৎসাহিত করে। প্রযুক্তির এই সুফলগুলো যেন শহরের পাশাপাশি গ্রামের প্রতিটি শিশু পর্যন্ত পৌঁছায়, সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের মাধ্যমে দূরশিক্ষণ এখন আর স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তবতা, যা প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল সুযোগ তৈরি করে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মের অপার সম্ভাবনা

ভাবুন তো, গ্রামে বসেও আপনার সন্তান বিশ্বমানের শিক্ষকের ক্লাস করতে পারছে, এমনটা কি আমরা কখনও ভেবেছিলাম? অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো এখন সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে। Khan Academy, 10 Minute School-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো অসংখ্য শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা, একদম বিনামূল্যে অথবা নামমাত্র মূল্যে। আমার মনে আছে, একবার এক প্রত্যন্ত গ্রামের মেলায় গিয়েছিলাম, সেখানে দেখলাম কিছু ছেলেমেয়ে স্মার্টফোনে টেন মিনিট স্কুলের ক্লাস করছে। ওদের চোখে যে স্বপ্ন আর জানার আগ্রহ দেখলাম, সেটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এই প্ল্যাটফর্মগুলো শুধু পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার সুযোগ করে দিচ্ছে, যা আমাদের চিরাচরিত শিক্ষা ব্যবস্থায় সবসময় সম্ভব হয় না। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের গতিতে শিখতে পারে, বারবার ভিডিও দেখে নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা বাড়ার সাথে সাথে এই সুযোগ আরও প্রসারিত হচ্ছে, যা শিক্ষার বৈষম্য কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করছে।

ইন্টারেক্টিভ লার্নিং: মুখস্থ নয়, বুঝে শেখা

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটা বড় সমস্যা ছিল মুখস্থবিদ্যা। পরীক্ষার আগে রাত জেগে বই মুখস্থ করা, তারপর সব ভুলে যাওয়া – এ যেন এক চক্র! কিন্তু ইন্টারেক্টিভ লার্নিং এই চক্র ভাঙতে সাহায্য করছে। ডিজিটাল কন্টেন্টে গেম, কুইজ বা সিমুলেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খেলার ছলে অনেক কিছু শিখতে পারছে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন শিশুরা হাতে-কলমে বা মজার ছলে কিছু শেখে, সেটা তাদের মনে অনেক দিন গেঁথে থাকে। শুধু পড়াশোনা নয়, কোডিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন বা রোবটিক্সের মতো বিষয়গুলোও এখন ইন্টারেক্টিভ উপায়ে শেখা সম্ভব, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করছে। ২০২৩ সালের নতুন শিক্ষাক্রমেও পরীক্ষাভীতি দূর করে সক্রিয় ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা যা শিখবে তা প্রয়োগ করতে পারে।

শহর-গ্রামের ব্যবধান ঘোচাতে ডিজিটাল পাঠশালা

আমরা প্রায়ই দেখি, শহর আর গ্রামের শিক্ষার মানের মধ্যে একটা বড় ফারাক। শহরের স্কুলগুলোতে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা, ভালো শিক্ষক, উন্নত ল্যাব – আর গ্রামে? অনেক ক্ষেত্রেই এর অভাব দেখা যায়। এই বৈষম্য দূর করতে ডিজিটাল পাঠশালা এক দারুণ সমাধান হয়ে আসতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় যখন গ্রামের বাড়িতে যেতাম, দেখতাম সেখানে অনেক ছেলেমেয়ে স্কুলে যেতে পারতো না, কারণ স্কুল অনেক দূরে ছিল অথবা বাবা-মায়ের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। এখন সেই চিত্র অনেকটাই পাল্টেছে, প্রযুক্তির হাত ধরে শিক্ষার আলো পৌঁছে যাচ্ছে প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে। যদিও এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, যেমন ইন্টারনেটের গতি, বিদ্যুতের অভাব বা ডিজিটাল ডিভাইস কেনার সামর্থ্য – তবে এসব বাধা পেরিয়ে যদি আমরা ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগগুলো সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারি, তাহলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এই উদ্যোগগুলো শুধু শিক্ষার্থীদেরই নয়, শিক্ষকদেরও আধুনিক করে তুলছে, তাদের নতুন নতুন কৌশল শেখাচ্ছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ও ডিভাইস নিশ্চিতকরণ

ডিজিটাল শিক্ষার মূল ভিত্তিই হলো ইন্টারনেট এবং প্রয়োজনীয় ডিভাইস। ভাবুন তো, আপনার সন্তান যখন স্মার্টফোনে বা ট্যাবলেটে নিজের পড়া দেখছে, তখন কেমন লাগে? দারুণ না?

কিন্তু আমাদের দেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো ইন্টারনেটের সুবিধা পৌঁছায়নি, অথবা মানুষের স্মার্টফোন বা কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য নেই। আমার মনে হয়, সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর উচিত এই বিষয়টায় আরও বেশি নজর দেওয়া। বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কম দামে ডিজিটাল ডিভাইস নিশ্চিত করা গেলে গ্রামের ছেলেমেয়েরাও প্রযুক্তির সুবিধা পাবে। সেভ দ্য চিলড্রেন, গণসাক্ষরতা অভিযান এবং ফ্রেন্ডশিপের মতো সংস্থাগুলো কুড়িগ্রাম ও জামালপুরের মতো এলাকায় মেয়েশিক্ষার্থীদের ট্যাব ব্যবহার করে শিখতে সহায়তা করেছে, যার ফলস্বরূপ তাদের শিক্ষায় সফলতার হার বেড়েছে।

Advertisement

দূরশিক্ষণ পদ্ধতির কার্যকারিতা

করোনা মহামারীর সময়ে আমরা সবাই দূরশিক্ষণের গুরুত্বটা আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। তখন স্কুল বন্ধ থাকলেও অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছে। এই অভিজ্ঞতাটা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। দূরশিক্ষণ শুধু জরুরি পরিস্থিতিতেই নয়, স্বাভাবিক সময়েও অনেক কার্যকরী হতে পারে। বিশেষ করে, যে সব এলাকায় মানসম্মত শিক্ষকের অভাব, সেখানে দূরশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে শহরের ভালো শিক্ষকদের ক্লাস গ্রামের শিক্ষার্থীরাও পেতে পারে। এই পদ্ধতি শিক্ষকদের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, কারণ তাদের এখন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করা এবং অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করার দক্ষতা অর্জন করতে হচ্ছে। এটা আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকেই আরও গতিশীল করছে।

কেবল বই নয়, জীবনমুখী শিক্ষার পথে হাঁটা

আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি বইকেন্দ্রিক ছিল, যেখানে বাস্তব জীবনের সঙ্গে তার যোগসূত্র অনেকটাই কম। পরীক্ষার ভালো ফলাফলের দিকেই ছিল সমস্ত মনোযোগ, কিন্তু জীবন গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখার সুযোগ কম ছিল। আমার মনে হয়, শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত একজন শিশুকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করা, শুধু ডিগ্রিধারী তৈরি করা নয়। যখন আমি দেখি আমাদের ছেলেমেয়েরা হাতে-কলমে কিছু শিখছে, তখন আমার মনটা আনন্দে ভরে যায়। কারণ, বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ব্যবহারিক দক্ষতা। নতুন শিক্ষাক্রমগুলো এখন এই দিকটাতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা আমার কাছে সত্যিই খুব ইতিবাচক মনে হয়েছে।

ব্যবহারিক শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যে শিক্ষা জীবনে কাজে আসে, সেটাই আসল শিক্ষা। আমাদের ছেলেমেয়েরা যদি শুধু থিওরি পড়ে, কিন্তু তার ব্যবহারিক প্রয়োগ না জানে, তাহলে সেই শিক্ষার মূল্য কতটুকু?

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একজন শিক্ষার্থী যদি স্কুলজীবন থেকেই ইলেক্ট্রনিক্স, কম্পিউটার রিপেয়ারিং বা গ্রাফিক্স ডিজাইনের মতো ব্যবহারিক কোনো দক্ষতা অর্জন করতে পারে, তাহলে তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের পথ অনেক সহজ হয়ে যায়। এতে তারা শুধু চাকরিমুখী না হয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পায়। আমাদের স্কুলগুলোতে আরও বেশি করে ব্যবহারিক ক্লাস ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত।

সৃজনশীলতা বিকাশে মুক্তমনা পরিবেশ

সৃজনশীলতা হলো প্রতিটি মানুষের ভেতরের এক সুপ্ত শক্তি, যাকে জাগিয়ে তোলা খুবই জরুরি। আমাদের স্কুলগুলোতে যদি মুখস্থবিদ্যার চাপ কমিয়ে শিশুদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তাদের সৃজনশীলতা বাড়বে। ছোটবেলায় আমি দেখেছি, কীভাবে একটা ছবি আঁকা বা একটা গল্প লেখার মধ্য দিয়ে শিশুরা নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করতো। এখন ডিজিটাল যুগে এই সুযোগ আরও বেড়েছে। কোডিং ক্লাব, রোবটিক্স ওয়ার্কশপ বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা – এই ধরনের কার্যক্রমগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন কিছু করার আগ্রহ তৈরি করে। শিক্ষকদেরও উচিত শিক্ষার্থীদের ভুলগুলো শুধরে দেওয়ার পরিবর্তে তাদের ভাবনাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া এবং উৎসাহিত করা। শিক্ষামন্ত্রীও বলেছেন, নতুন শিক্ষাক্রম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেখানে শিক্ষা হবে আনন্দময় এবং মুখস্থ বিদ্যার বালাই থাকবে না।

শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি: মানসম্মত শিক্ষার মেরুদণ্ড

শিক্ষকরাই হলেন একটি জাতির মেরুদণ্ড, আর আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। একজন ভালো শিক্ষক যেমন হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দিতে পারেন, তেমনি একজন অদক্ষ শিক্ষক পুরো প্রজন্মের ক্ষতি করতে পারেন। তাই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। আমার বহু বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, শিক্ষকরা যদি আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষিত না হন, তাহলে যতই ভালো অবকাঠামো বা ডিজিটাল ডিভাইস থাকুক না কেন, তার সুফল পাওয়া কঠিন। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুধু তাদের পেশাগত জ্ঞানই বাড়ায় না, বরং তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে তোলে।

আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির গুরুত্ব

এখনকার দিনে শিক্ষা পদ্ধতিতেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনা করা, ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করা বা শিক্ষার্থীদের সাথে ইন্টারেক্টিভ পদ্ধতিতে যুক্ত হওয়া – এসবই আধুনিক শিক্ষকের জন্য অত্যাবশ্যক। আমার মনে আছে, যখন প্রথম ডিজিটাল ক্লাস শুরু হয়েছিল, তখন অনেক শিক্ষককেই বেশ হিমশিম খেতে দেখেছি। কিন্তু যখন তারা প্রশিক্ষণ পেলেন, তখন দেখলাম তাদের আত্মবিশ্বাস কত বেড়ে গেছে!

সরকারও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত, যাতে তারা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন এবং শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষা দিতে পারেন।

Advertisement

প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি

ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা সফল করতে হলে শিক্ষকদের প্রযুক্তি জ্ঞান থাকাটা খুব জরুরি। শুধু শিক্ষার্থীদের হাতে ট্যাবলেট ধরিয়ে দিলেই হবে না, শিক্ষকদেরও জানতে হবে কিভাবে সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কার্যকরভাবে ক্লাস নিতে হয়। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট মডেম ও স্পিকারের সমন্বয়ে ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’ চালু করা হয়েছে, কিন্তু এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় দেখা যায়, স্কুলে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও শিক্ষকরা সেগুলোর সঠিক ব্যবহার করতে পারেন না, ফলে সব আয়োজন বৃথা যায়। আমার মনে হয়, শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত, যেখানে তারা হাতে-কলমে প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে পারবেন। এতে তারা শুধু ক্লাসেই নয়, ব্যক্তিগতভাবেও অনেক উপকৃত হবেন।

আর্থিক বাধা পেরিয়ে স্বপ্নের উড়ান

학습권과 교육 기회 균등 - **Prompt:** "An engaging and lively scene inside a modern Bengali school classroom, showcasing inter...
শিক্ষা মৌলিক অধিকার হলেও, আমাদের সমাজে অনেক পরিবার আছে যাদের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আমি যখন দেখি কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী শুধু টাকার অভাবে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারছে না, তখন খুব কষ্ট লাগে। কিন্তু সুখের কথা হলো, এখন সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা আর্থিক সহায়তা দিয়ে এসব শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। আমার মনে হয়, শিক্ষার অধিকার সবার জন্য সমান হওয়া উচিত, ধনী-গরীব নির্বিশেষে। এই আর্থিক সহায়তাগুলো অনেক শিশুর জীবনে নতুন আশা জাগাচ্ছে, তাদের স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে দিচ্ছে।

বৃত্তি ও উপবৃত্তির সহজলভ্যতা

সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য নানা ধরনের বৃত্তি ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছে, যা সত্যি প্রশংসনীয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এই সহায়তাগুলো অনেক বড় ভরসা। মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫ হাজার টাকা, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ৮ হাজার টাকা এবং স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে ১০ হাজার টাকা হারে ভর্তি সহায়তা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। এছাড়াও, আহত ও চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত এককালীন চিকিৎসা অনুদানও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, আবেদন প্রক্রিয়া জটিল হওয়ার কারণে অনেক যোগ্য শিক্ষার্থী এই সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত হয়। আমার মতে, আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ এবং স্বচ্ছ করা উচিত, যাতে সত্যিই যারা অভাবী, তারা সহজেই এই সহায়তা পেতে পারে।

শিক্ষাপোকরণ ও ডিজিটাল ডিভাইসের জোগান

আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাপোকরণ ও ডিজিটাল ডিভাইস নিশ্চিত করাও খুব জরুরি। একটা ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবার আছে, যারা তাদের সন্তানদের জন্য বই বা খাতা কিনতেই হিমশিম খায়, সেখানে ডিজিটাল ডিভাইস কেনার কথা তো ভাবাই যায় না। তাই সরকার বা বিভিন্ন এনজিও যদি স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে এসব ডিভাইস বিতরণের উদ্যোগ নেয়, তাহলে অনেক পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ পাবে। এতে শিক্ষা বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।

অভিভাবকদের সচেতনতা: শিশুর শিক্ষায় প্রথম পাঠ

Advertisement

শিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু স্কুল আর শিক্ষকই নয়, অভিভাবকদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটা শিশুর প্রথম শিক্ষালয় হলো তার পরিবার। বাবা-মা যদি তাদের সন্তানের পড়ালেখার বিষয়ে সচেতন হন এবং তাদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সেই শিশুর শিক্ষার পথ অনেকটাই মসৃণ হয়ে যায়। আমি দেখেছি, যে সব বাবা-মা তাদের সন্তানের পড়ালেখায় আগ্রহী, তাদের ছেলেমেয়েরা অনেক ভালো ফল করে। কিন্তু অনেক সময় অসচেতনতার কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানের শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পারেন না, যা খুবই দুঃখজনক।

পিতামাতার ভূমিকা ও সম্পৃক্ততা

অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানের সাথে বন্ধুর মতো মিশে তাদের পড়ালেখার খোঁজখবর নেওয়া। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের চাপ না দিয়ে তাদের আগ্রহের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাওয়া এবং সেগুলোকে উৎসাহিত করা। স্কুলে পিটিএ মিটিং বা অভিভাবক সমাবেশে অংশ নিয়ে শিক্ষকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখাটাও খুব জরুরি। এতে সন্তানের পড়ালেখার অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যায় এবং কোনো সমস্যা হলে সেটার সমাধান করা সহজ হয়। শিক্ষকদেরও উচিত অভিভাবকদের সাথে আরও বেশি করে আলোচনা করা এবং তাদের সচেতন করে তোলা।

বাড়িতে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি

বাড়িতে একটা শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ থাকাটা খুবই দরকার। এর মানে এই নয় যে, সবসময় পড়ালেখার চাপ দিতে হবে। বরং, একটা এমন পরিবেশ যেখানে শিশু তার পছন্দমতো বই পড়তে পারবে, নতুন কিছু শিখতে পারবে বা নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারবে। অনেক পরিবারে দেখা যায়, বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া বা পারিবারিক অশান্তির কারণে শিশুদের পড়াশোনায় মন বসে না। তাই অভিভাবকদের উচিত, বাড়িতে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা যেখানে শিশুরা নির্দ্বিধায় পড়ালেখা করতে পারে এবং নিজেদের মানসিক বিকাশের সুযোগ পায়।

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার মূল চাবিকাঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে একটি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। এই স্মার্ট বাংলাদেশ মানে শুধু প্রযুক্তি নির্ভর দেশ নয়, বরং স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজ। আর এই বিশাল স্বপ্ন পূরণের মূল চাবিকাঠি হলো মানসম্মত শিক্ষা। আমার মনে হয়, আমরা যদি শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে না পারি, তাহলে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। কারণ, একটি শিক্ষিত ও দক্ষ জাতিই পারে একটি দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে।

ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ জনশক্তি

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের এমন জনশক্তি দরকার, যারা আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং যারা উদ্ভাবনী চিন্তা করতে পারে। শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই হবে না, হাতে-কলমে কাজ করার দক্ষতাও থাকতে হবে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার গুরুত্ব এখানেই। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরি খোঁজার পরিবর্তে চাকরি তৈরি করতে পারে। আমার মনে হয়, যারা এখন ছোট, তাদের যদি সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, তাহলে তারাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের চালিকাশক্তি হবে।

জাতীয় উন্নয়নে শিক্ষার প্রভাব

শিক্ষা শুধু ব্যক্তির জীবনকেই বদলে দেয় না, বরং একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও এর বিরাট প্রভাব রয়েছে। একটি শিক্ষিত জাতি উন্নত জীবনযাপন করে, অর্থনীতিতে অবদান রাখে এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখে। মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করে কীভাবে দ্রুত উন্নতি করেছে, তা আমাদের জন্য বড় উদাহরণ। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কোনো খরচ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ, যার সুফল দেশ ও জাতি যুগ যুগ ধরে ভোগ করে। তাই আমাদের সবার উচিত শিক্ষার মানোন্নয়নে একযোগে কাজ করা, যাতে আমাদের দেশের প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে অংশ নিতে পারে।

বৈশিষ্ট্য প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা (আগে যেমন ছিল) আধুনিক ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা (যেমন হওয়া উচিত)
শিখন পদ্ধতি মূলত শিক্ষকের বক্তৃতা ও বই মুখস্থ করা। ইন্টারেক্টিভ, অভিজ্ঞতাভিত্তিক, ব্যবহারিক প্রয়োগ ও সৃজনশীলতা।
শিক্ষাপোকরণ পাঠ্যপুস্তক, খাতা, কলম, ব্ল্যাকবোর্ড। ডিজিটাল কন্টেন্ট, ট্যাবলেট, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মাল্টিমিডিয়া।
শিক্ষকের ভূমিকা তথ্য প্রদানকারী ও নির্দেশক। পথপ্রদর্শক, সহায়ক ও মেন্টর।
মূল্যায়ন পদ্ধতি মুখস্থ নির্ভর লিখিত পরীক্ষা। ধারাবাহিক মূল্যায়ন, প্রায়োগিক দক্ষতা ও সমস্যা সমাধান ক্ষমতা।
শিক্ষার ব্যাপ্তি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ, শহরকেন্দ্রীক। শ্রেণিকক্ষের বাইরেও প্রসারিত, শহর ও গ্রাম সর্বত্র সহজলভ্য।
লক্ষ্য শুধুমাত্র পাশ করা ও ভালো ফলাফল করা। দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করা।

বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আমি জানি, শিক্ষার এই বিশাল জগতে আমরা সবাই যেন একই নৌকার যাত্রী। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখছি, নতুন পথের সন্ধান করছি। আজকের এই দীর্ঘ আলোচনা শেষে আপনাদের কেমন লাগছে?

আমার মনে হয়, আমরা সবাই একমত যে, আমাদের শিশুদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে হলে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এই পথটা হয়তো মসৃণ নয়, কিন্তু আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর সদিচ্ছা থাকলে আমরা যে কোনো বাধাই পেরিয়ে যেতে পারি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমি বারবার দেখেছি, সামান্য একটু উদ্যোগ কিভাবে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাই আসুন, সবাই মিলে আমাদের প্রিয় সন্তানদের জন্য এক আলোকিত শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করি। আমাদের এই যাত্রায় আপনাদের পাশে পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত!

글을마치며

শিক্ষার আলোয় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করার যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, তা বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক এবং যুগোপযোগী করে তুলতে হবে। প্রতিটি শিশু যাতে তার মেধা ও সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করে দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। আমি বিশ্বাস করি, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, শিক্ষকদের নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা – এই তিনের সমন্বয়ে আমরা সত্যিই এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারব। আমাদের সন্তানদের হাতেই তো আমাদের সোনালী ভবিষ্যতের চাবি!

Advertisement

알아두면 쓸মো 있는 정보

১. আপনার সন্তানের জন্য অনলাইন শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মগুলো অন্বেষণ করুন এবং তাদের পছন্দের বিষয়গুলো শিখতে উৎসাহিত করুন।

২. কেবল বইয়ের পড়া নয়, ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনে শিশুদের উৎসাহিত করুন; যেমন – ছবি আঁকা, কোডিং বা হাতে-কলমে কিছু তৈরি করা।

৩. বাড়িতে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করুন, যেখানে তারা নির্দ্বিধায় প্রশ্ন করতে পারবে এবং নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী হবে।

৪. সন্তানের স্কুলের শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন এবং তাদের পড়ালেখার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিন।

৫. সরকারের বিভিন্ন শিক্ষামূলক বৃত্তি ও উপবৃত্তির তথ্য সংগ্রহ করুন এবং আপনার সন্তান যোগ্য হলে সেগুলো পাওয়ার জন্য আবেদন করুন।

중요 사항 정리

আমাদের আজকের আলোচনায় আমরা দেখেছি, কিভাবে আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষার জগতে বিপ্লব আনছে এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষার ব্যবধান ঘোচাতে সহায়তা করছে। শিক্ষার্থীদের শুধু মুখস্থবিদ্যা নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করানো এখন সময়ের দাবি। এজন্য শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া অপরিহার্য। পাশাপাশি, আর্থিক বাধা দূর করতে বৃত্তি ও উপবৃত্তি সহজলভ্য করা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। একটি সমৃদ্ধ “স্মার্ট বাংলাদেশ” গড়তে হলে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই, যেখানে প্রতিটি শিশু তার সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারবে। এই পথে আমাদের সবার সক্রিয় অংশগ্রহণই আমাদের লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: বাংলাদেশের গ্রামীণ বা প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা আজও কেন অধরা থেকে যাচ্ছে?

উ: আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই প্রশ্নটা আমাকে প্রতিনিয়ত ভাবায়। আমাদের দেশের গ্রামীণ ও শহরের শিক্ষাব্যবস্থায় যে বিশাল বৈষম্য, তা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পথে একটি বড় বাধা। শহর আর গ্রামের সুযোগ-সুবিধাগুলোর পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। গ্রামে পর্যাপ্ত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব, আধুনিক প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার, এমনকি ভালো অবকাঠামোর অভাবও দেখা যায়। আমি নিজে দেখেছি, অনেক স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস বা ইন্টারনেট সংযোগের মতো মৌলিক সুবিধাগুলোও পৌঁছায়নি। যেখানে উন্নত দেশগুলোতে অনেক আগেই ই-লার্নিং ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে, সেখানে আমাদের অনেক গ্রামীণ বিদ্যালয়ে এখনো বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের মতো প্রাথমিক সংযোগই নেই। এর ফলে, শহরের শিক্ষার্থীরা যখন ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে হাতের মুঠোয় পাচ্ছে, তখন গ্রামের ছেলেমেয়েরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অর্থনৈতিক দুর্বলতা, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম—এসব কারণেও অনেক শিক্ষার্থী স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে, যা গ্রামীণ শিক্ষার মানকে আরও খারাপ করে দিচ্ছে। সরকার যদিও ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন ধীর হওয়ায় এর সুফল এখনো সবখানে পৌঁছায়নি। আমার মনে হয়, এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে তবেই আমরা প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবো।

প্র: স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে মুখস্থ বিদ্যা থেকে বের করে এনে প্রযুক্তিনির্ভর করার উপায় কী?

উ: স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনাটা খুবই জরুরি, এটা আমি সবসময় বলে আসছি। আমি যখন দেখি শিক্ষার্থীরা কেবল মুখস্থ বিদ্যার পেছনে ছুটছে, তখন সত্যিই কষ্ট লাগে। আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা প্রায়ই মুখস্থনির্ভর এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক, যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা আর বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু এই ডিজিটাল যুগে, কেবল মুখস্থ করা তথ্য দিয়ে নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা দিয়েই টিকে থাকতে হবে। আমার মনে হয়, এর জন্য প্রথমত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একজন শিক্ষক যখন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হবেন, তখনই তিনি শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের মাধ্যমে আকর্ষণীয়ভাবে শেখাতে পারবেন। সরকার ইতিমধ্যেই ২০২৩ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করেছে, যেখানে আনন্দময় শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। এর পাশাপাশি, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো বাড়াতে হবে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট ও ডিজিটাল ডিভাইসের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্সগুলো এক্ষেত্রে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক ডিজাইন বা ডেটা অ্যানালাইসিসের মতো ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করবে। আমার বিশ্বাস, যদি আমরা পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দিতে পারি, তাহলেই আমাদের শিক্ষার্থীরা সত্যিকারের স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।

প্র: একটি শিশুর ভেতরের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবক ও সমাজের ভূমিকা কতটুকু?

উ: শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে অভিভাবক এবং সমাজের ভূমিকা যে কতটা অপরিসীম, তা আমি আমার দীর্ঘ কর্মজীবনে বারবার উপলব্ধি করেছি। শুধু স্কুল বা শিক্ষক নয়, পরিবার ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশই একটি শিশুর ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলার মূল চাবিকাঠি। আমার মনে হয়, অভিভাবকদের শুধু ভালো ফলাফলের দিকে নজর দিলেই চলবে না, বরং তাদের সন্তান যেন সুস্থ থাকে এবং ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, সেদিকেও মনোযোগ দিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, আমরা অভিভাবকরা জিপিএ ৫ অর্জনের জন্য বাচ্চাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করি, যা তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মুখস্থ করে ভালো নম্বর পাওয়াটা মেধার আসল পরিচয় নয়, আসল মেধা হলো বাস্তব বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া এবং সমস্যার সমাধান করতে পারা। তাই অভিভাবকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, সন্তানের পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানা, এবং বাড়িতেও তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা—এগুলো শিশুর বিকাশে দারুণভাবে সাহায্য করে। সমাজের ক্ষেত্রে, স্থানীয় সম্প্রদায় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সমন্বয় খুবই প্রয়োজন। গ্রামের দিকে মা সমাবেশ বা সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা যেতে পারে, যা মেয়েদের ঝরে পড়া বা বাল্যবিবাহের মতো সমস্যাগুলো কমাতেও সাহায্য করবে। যখন অভিভাবক ও শিক্ষক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন, তখন একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে, নতুন কিছু শেখার আগ্রহ তৈরি হয় এবং তার ভেতরের সম্ভাবনাগুলো বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ যদি শিক্ষার গুরুত্ব সঠিকভাবে উপলব্ধি করে এবং নিজেদের দায়িত্ব পালন করে, তাহলে প্রতিটি শিশু তার সর্বোচ্চ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারবে।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement